প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ২০২২ পরীক্ষার ফলাফল নভেম্বরে

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২২ এর ফলাফল আগামী নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে প্রকাশিত হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE – Directorate of Primary Education)। ফল প্রকাশের পর দ্রুতই নিয়োগ দেওয়ার কাজও শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিইপি) মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, শিক্ষক নিয়োগের কাজ চলমান।। তবে তা ডিসেম্বরেও গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তবে নিয়োগ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল মঙ্গলবার বলেন, নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নভেম্বর মাসে ফল প্রকাশ সম্ভব নাও হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বর মাসে গড়িয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে সব জেলার মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। কিন্তু যাঁরা মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২০ শতাংশ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা সমমান উত্তীর্ণ প্রার্থী বাছাই নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। এ জন্য বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয়েছে। কিছুদিন আগে এ-সংক্রান্ত চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ডিইপিতে এসেছে।

DPE প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল আপডেটঃ

শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, আশা করছি নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় সপ্তাহে সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে। পদ বাড়বে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি করতে হলে মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। সেটি আসেনি। তাই পদ বাড়ছে কি না, এখনই বলা যাচ্ছে না।

বর্তমানে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি। এগুলোতে মোট শিক্ষক আছেন প্রায় পৌনে ৪ লাখ। এখন নতুন করে আরও ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ কোটাঃ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০১৯-এর ৮ ধারার ২ নম্বর উপধারাতে (ঘ) বলা হয়েছে, ‘নির্ধারিত কোটার শিক্ষকদের মধ্যে প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে (নারী ৬০ শতাংশ, পোষ্য ২০ শতাংশ ও অবশিষ্ট পুরুষ শতাংশ) অবশ্যই ২০ শতাংশ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তবে শর্ত থাকে, এভাবে ২০ শতাংশ কোটা পূরণ না হলে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে।’

জানা গেছে, এ নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা তিন ধাপে নেওয়া হলেও, চূড়ান্ত ফল একবারেই প্রকাশ করা হতে পারে। প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪০ হাজার ৮৬২, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৫৯৫ এবং তৃতীয় ধাপে ৫৭ হাজার ৩৬৮ জন।

প্রথমে ৩২ হাজারের বেশি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও পরে অবসরের কারণে আরও ১০ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হয়। এ জন্য একসঙ্গে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল দেখতে http://www.dpe.gov.bd/site/view/notices অথবা https://mopme.gov.bd/site/notice এই লিংকে ক্লিক করতে হবে। এরপর পিডিএফ ফরমেটে ফলাফল প্রকাশ সম্পর্কিত ফাইল দেখতে পাবেন।

উক্ত PDF ফাইলটি ডাউনলোড করে শিক্ষক নিয়োগের ফলাফল দেখতে পারবেন।