বিসিএস কর্নার › বিসিএস পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা

বিসিএস পরীক্ষা (BCS Examination), সিলেবাস ও মানবণ্টন

বিসিএস পরীক্ষা (BCS Examination) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) পরিচালিত দেশের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ও সম্মানজনক চাকরি নিয়োগ পরীক্ষা। প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, কর সহ বিসিএস ক্যাডারসমূহে কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য এই নির্দেশিকায় প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইভা ও আবেদন যোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

🗓️ আপডেট: সেপ্টেম্বের ২০২৬ ⏱️ পড়ার সময়: ১০ মিনিট
🏆 প্রিলিমিনারি মডেল টেস্ট দিন →

🏛️ বিসিএস পরীক্ষা কি? (What is BCS Examination)

বিসিএস (BCS) এর পূর্ণ অর্থ হলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (Bangladesh Civil Service)। বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (Bangladesh Public Service Commission – BPSC) কতৃক সিভিল সার্ভিসের সরকারি ক্যাডারসমূহে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য এই প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

দৈনিক প্রথম আলো এর তথ্য মতে, ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় ১,৭১০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিপরীতে মোট ৩,৫০,৭১৬ জন প্রার্থী আবেদন করেন। অর্থাৎ প্রতি পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২০৫ জন। বিসিএস পরীক্ষায় ক্যাডার পদে চূড়ান্ত সাফল্যের গড় হার মাত্র ০.০২% এবং সাধারণ ক্যাডারের ক্ষেত্রে যা মাত্র ০.০০৫%।

ক্যাডারসমূহ সরকারি বিসিএস ক্যাডার
২০০ প্রিলিমিনারি মার্কস
৯০০ লিখিত পরীক্ষার মার্কস
২০০ ভাইভা বোর্ডের মার্কস

🎓 বিসিএস আবেদন যোগ্যতা (BCS Apply Qualification)

বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একজন প্রার্থীর প্রাথমিক যোগ্যতা নিম্নরূপ:

১.
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক/অনার্স বা সমমানের ডিগ্রি। শিক্ষাজীবনে একাধিক ৩য় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয়।
২.
বয়সসীমা: সাধারণ প্রার্থীর ক্ষেত্রে ২১ থেকে ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩২ বছর।
৩.
নাগরিকত্ব: অবশ্যই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

🔄 বিসিএস পরীক্ষার ৩টি ধাপ (BCS Exam Process)

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণত ৩টি মূল পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়:

ধাপ ১: প্রিলিমিনারি

২০০ নম্বরের MCQ টেস্ট

১০টি বিষয়ের ওপর ২০০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন। সময় ১২০ মিনিট। প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ কাটা যাবে।

ধাপ ২: লিখিত পরীক্ষা

৯০০/১১০০ নম্বরের লিখিত

সাধারণ ক্যাডারের জন্য ৯০০ নম্বর এবং কারিগরি ক্যাডারের জন্য অতিরিক্ত ২০০ সহ মোট ১১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা।

ধাপ ৩: মৌখিক পরীক্ষা

২০০ নম্বরের ভাইভা

বিপিএসসি বোর্ডে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতার ২০০ নম্বরের মৌখিক মূল্যায়ন।

Step 1 Details

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবণ্টন (২০০ নম্বর)

অনলাইন প্রিলিমিনারি মডেল টেস্ট দিন →

৩৫তম বিসিএস পরীক্ষা থেকে বিপিএসসি ২০০ নম্বরের ২ ঘণ্টা মেয়াদী ১০টি বিষয়ের ওপর MCQ Type প্রিলিমিনারি টেস্ট প্রবর্তন করেছে। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ১০টি বিষয়ের প্রশ্নের অফিশিয়াল মানবণ্টন নিম্নরূপ:

ক্রমিক বিষয় ও সিলেবাসের নাম (Subject Title) প্রশ্নের সংখ্যা মোট নম্বর
১ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য (Bengali Language & Literature) ৩৫ টি ৩৫
২ ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য (English Language & Literature) ৩৫ টি ৩৫
৩ বাংলাদেশ বিষয়াবলী (Bangladesh Affairs) ৩০ টি ৩০
৪ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (International Affairs) ২০ টি ২০
৫ ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Geography & Environment) ১০ টি ১০
৬ সাধারণ বিজ্ঞান (General Science) ১৫ টি ১৫
৭ কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি (Computer & IT) ১৫ টি ১৫
৮ গাণিতিক যুক্তি (Mathematical Reasoning) ১৫ টি ১৫
৯ মানসিক দক্ষতা (Mental Ability) ১৫ টি ১৫
১০ নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন (Ethics, Values & Governance) ১০ টি ১০
সর্বমোট (Total): ২০০ টি ২০০
Step 2 Details

বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন (৯০০ নম্বর)

লিখিত সমাধান ও নমুনা প্রশ্ন দেখুন →

বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় সাধারণ ক্যাডার প্রার্থীদের আবশ্যকীয় ৬টি বিষয়পত্রে মোট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডার প্রার্থীদের পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অতিরিক্ত ২০০ নম্বর সহ মোট ১১০০ নম্বর পরীক্ষা দিতে হয়।

ক্রমিক আবশ্যকীয় বিষয়পত্র (Compulsory Written Subjects) পরীক্ষার সময় মোট নম্বর
১ বাংলা (১ম ও ২য় পত্র) — General Cadre ৪ ঘণ্টা + ৪ ঘণ্টা ২০০
২ ইংরেজি (English 1st & 2nd Paper) ৪ ঘণ্টা ২০০
৩ বাংলাদেশ বিষয়াবলী (Bangladesh Affairs) ৪ ঘণ্টা ২০০
৪ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (International Affairs) ৩ ঘণ্টা ১০০
৫ গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (Math & Mental Ability) ২ ঘণ্টা + ২ ঘণ্টা ১০০
৬ সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (General Science & Technology) ৩ ঘণ্টা ১০০
সাধারণ ক্যাডার সর্বমোট (General Cadre Total): ৯০০

🗣️ ভাইভা ও ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা (Viva Voce - 200 Marks)

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা বিপিএসসি বোর্ডের ২০০ নম্বরের মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীর মার্জিত ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি, দেশের আর্থ-সামাজিক জ্ঞান ও চয়েসকৃত ক্যাডার সম্পর্কিত স্বচ্ছ ধারণা মূল্যায়ন করা হয়। ভাইভাতে পাস নম্বর ৫০% (১০০ নম্বর)।

🏛️ বিসিএস ক্যাডার তালিকা ও চয়েস কৌশল

ক্যাডার গাইড →

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে দুটি মূল ক্যাডার বিভাগ রয়েছে: সাধারণ ক্যাডার (General Cadres) ও কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার (Technical/Professional Cadres)। প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, কর, কাস্টমস সহ জনপ্রিয় ক্যাডারের বেতন স্কেল ৯ম গ্রেড (২২,০০০ – ৫৩,০৬০ টাকা)।

❓ সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (BCS FAQ)

বিসিএস (BCS) এর পূর্ণ রূপ হলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (Bangladesh Civil Service)। এটি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) কতৃক পরিচালিত দেশের ১ম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা (ক্যাডার) নিয়োগের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষা।
৩৫তম বিসিএস থেকে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০০ নম্বরের ২ ঘণ্টা মেয়াদী MCQ পরীক্ষা হিসেবে গৃহীত হয়। এতে ১০টি বিষয় থাকে: বাংলা (৩৫), ইংরেজি (৩৫), বাংলাদেশ বিষয়াবলী (৩০), আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (২০), ভূগোল ও পরিবেশ (১০), সাধারণ বিজ্ঞান (১৫), কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (১৫), গাণিতিক যুক্তি (১৫), মানসিক দক্ষতা (১৫) এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন (১০)।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১.০০ নম্বর পাওয়া যায় এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ (হাফ) নম্বর কাটা যায়। অফিশিয়ালি পাস নম্বর ৫০% (১০০ নম্বর)। তবে প্রার্থীর সংখ্যা ও পদের ভিত্তিতে কাট-অফ মার্ক নির্ধারিত হয়।
সাধারণ ক্যাডারের জন্য আবশ্যকীয় ৬টি বিষয়পত্রে মোট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়: বাংলা (২০০), ইংরেজি (২০০), বাংলাদেশ বিষয়াবলী (২০০), আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (১০০), গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (১০০), এবং সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (১০০)। কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারের ক্ষেত্রে পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অতিরিক্ত ২০০ নম্বর সহ মোট ১১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।
লিখিত পরীক্ষায় গাণিতিক যুক্তি ৫০ নম্বর (২ ঘণ্টা) এবং মানসিক দক্ষতা ৫০ নম্বর (২ ঘণ্টা) মিলিয়ে মোট ১০০ নম্বর। সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিজ্ঞান ৫০, তথ্যপ্রযুক্তি ২৫ ও ইলেকট্রনিক্স ২৫ মিলিয়ে ১০০ নম্বর।
লিখিত পরীক্ষায় গড়ে ৫০% (অর্থাৎ ৯০০ নম্বরের মধ্যে ৪৫০ নম্বর) পেতে হয়। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো একটি বিষয়পত্রে ৩০% এর কম নম্বর পেলে উক্ত বিষয়ে প্রার্থী শূন্য (০) নম্বর পেয়েছেন বলে গণ্য হবে।
বিপিএসসি বোর্ডে ২০০ নম্বরের ভাইভা বা ব্যক্তিত্ব পরীক্ষা নেওয়া হয়। ভাইভাতে পাস নম্বর ৫০% অর্থাৎ ন্যূনতম ১০০ নম্বর পেতে হয়। ১০০ এর কম নম্বর পেলে ক্যাডার পদের জন্য বিবেচনা করা হয় না।
সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, শারীরিকভাবে ব্যাকওয়ার্ড প্রজনন ও প্রতিবন্ধী প্রার্থীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর। বিপিএসসি সার্কুলারে বর্ণিত নির্দিষ্ট কাট-অফ তারিখ (যেমন ১লা নভেম্বর) অনুযায়ী বয়স গণনা করা হয়।
হ্যাঁ, যদি আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের পূর্বেই প্রার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে বিভাগীয় প্রধানের অনাপত্তি সনদ (Appeared Certificate) দাখিল করে আবেদন করা যাবে।
সাধারণ ক্যাডারে (যেমন প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, কর, কাস্টমস) যে কোনো বিষয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন। আর কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারে (যেমন বিসিএস স্বাস্থ্য, বিসিএস প্রকৌশল, বিসিএস শিক্ষা, বিসিএস কৃষি) নির্দিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রিধারী প্রার্থীরাই যোগ্য।
চূড়ান্ত ভাইভাতে সফল কিন্তু ক্যাডার পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সুপারিশ না পাওয়া মেধাবী প্রার্থীদের মেধার ভিত্তিতে ১ম শ্রেণির (৯ম গ্রেড) ও ২য় শ্রেণির (১০ম-১২তম গ্রেড) নন-ক্যাডার সরকারি পদে (যেমন সহকারী পরিচালক, ইন্সপেক্টর, কাস্টমস কর্মকর্তা) সরাসরি নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।
বিপিএসসি কতৃক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে প্রিলিমিনারি, লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নিয়োগ গেজেট প্রকাশ হতে সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগে।